সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শাল্লায় ‘সমন্বয়কের পিআইসি’ : ফসলহানির ঝুঁকির সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, শঙ্কায় কৃষক জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল জামালগঞ্জে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

অর্ধসমাপ্ত সেতু, অব্যবস্থাপনার প্রতীক

  • আপলোড সময় : ১৮-১২-২০২৫ ০৯:০০:২১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৮-১২-২০২৫ ০৯:০০:২১ পূর্বাহ্ন
অর্ধসমাপ্ত সেতু, অব্যবস্থাপনার প্রতীক
তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর (উত্তর) ইউনিয়নের পাটলাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুটি আজ কেবল একটি অসমাপ্ত অবকাঠামো নয় - এটি রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিহীনতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর কাজ দেড় বছর ধরে বন্ধ পড়ে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘদিনের স্বপ্নের এই সেতু বাস্তবে রূপ নেওয়ার আগেই হতাশার কারণ হয়ে উঠেছে। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর হঠাৎ করে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রশ্ন তোলে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ফেলে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এর ফলে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের মাটি বর্ষায় ধসে পড়ছে, খাল-বিল ভরাট হচ্ছে এবং অসমাপ্ত কাঠামোর রডে মরিচা ধরে কোটি টাকার সরকারি স¤পদ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এ অবস্থার সবচেয়ে বড় শিকার স্থানীয় সাধারণ মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী সবাই এই অবহেলার মূল্য দিচ্ছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু যেখানে মানুষের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা, সেখানে সেটিই আজ আতঙ্কের কারণ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দায় এড়ানোর সংস্কৃতি। একদিকে ঠিকাদার বিল পরিশোধ না পাওয়ার কথা বলছেন, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বরাদ্দ সংকটের কথা জানাচ্ছে। কিন্তু এই টানাপোড়েনে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের দায় কে নেবে? প্রকল্প শুরু করার আগে অর্থের নিশ্চয়তা ও সময়সীমার বাস্তব পরিকল্পনা ছাড়া কাজ শুরু করা কি দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত ছিল? এলজিইডি ও উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাস আশাব্যঞ্জক হলেও শুধু আশ্বাসে সমস্যার সমাধান হয় না। দ্রুত বরাদ্দ নিশ্চিত করে ঠিকাদারকে কাজ শেষ করতে বাধ্য করা, প্রয়োজনে চুক্তি বাতিল করে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। পাটলাই নদীর সেতু কেবল একটি যোগাযোগ স্থাপনা নয়, এটি এই অঞ্চলের অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেড় বছর ধরে পড়ে থাকা এই সেতু অবিলম্বে স¤পন্ন না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে, আর মানুষের আস্থাহীনতা গভীর হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, উন্নয়ন মানে কেবল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নয়, সময়ে কাজ শেষ করাই প্রকৃত উন্নয়ন। তাহিরপুরের মানুষ আর আশ্বাস নয়, চায় কার্যকর পদক্ষেপ। এখনই যদি এই অর্ধসমাপ্ত সেতুর দিকে নজর না দেওয়া হয়, তবে এটি ভবিষ্যতে ব্যর্থ উন্নয়ন প্রকল্পের উদাহরণ হিসেবেই জায়গা করে নেবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স